ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা কাটিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে সরকার

ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাজেট নিখুঁত না হলেও প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে কর ও জিডিপির অনুপাত উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী জানান, আগের প্রশাসন বিদ্যুৎ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল রেখে গেছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে জাতীয় ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে নতুন আঙ্গিকে নীতি নির্ধারণ করছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সরাসরি সুবিধাভোগীর হাতে অর্থ পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এনবিআর বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে পেশাদার কর বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর প্রদানের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। রপ্তানি খাতের বিকাশে বন্ড সুবিধা এবং কর ছাড়ের সুযোগ সহজ করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। তবে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই এবং বিনিয়োগ ছাড়া এই দুই খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।