টিসিবি ও খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য বড় ক্রয়াদেশ অনুমোদন সরকারি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি

দেশীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি’র জন্য ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তেল কেনাসহ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় বেশ কিছু প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, চারটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগৃহীত এই তেলের জন্য সরকারের ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতি লিটার তেলের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা। এর মধ্যে ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকে ২০ লাখ লিটার করে তেল কেনা হবে। বাকি ৬০ লাখ লিটারের যোগান দেবে যশোরের মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেড এবং ঢাকার মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড, যারা প্রত্যেকে ৩০ লাখ লিটার করে সরবরাহ করবে।
টিসিবির জন্য মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮১৪ লিটার তেল সংগৃহীত হয়েছে। নতুন এই সংগ্রহের ফলে সরকারি মজুত ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। মূল নকশায় পরিবর্তন ও প্রাক্কলনে ত্রুটির কারণে প্রকল্পটির ব্যয় ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৫ কোটি ১০ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই সংশোধিত ব্যয়মূল্য মূল চুক্তির তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সুবিধার্থে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ পাটের বস্তা কেনার প্রক্রিয়াটিও চূড়ান্ত করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।