সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

মিয়ানমার সীমান্তসহ দেশের স্পর্শকাতর সীমানা দিয়ে অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে ইয়াবা, আইস এবং ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তার অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি এবং টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে সীমান্ত চৌকিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে এসেছে এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় বিজিবি এখন যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আগের চেয়ে অনেক বেশি তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে সক্ষম।

মন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তবাসীদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%