স্মার্ট কৃষি রূপায়ণে আই হ্যাভ এ প্লান কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি তার বহুল আলোচিত স্লোগান ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বা ‘আমার পরিকল্পনা আছে’-এর রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে প্রান্তিক কৃষক কেবল উৎপাদক নয়, বরং ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান কৃষিখাতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তিনি জানান, কৃষকদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২টি কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, শস্য, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার, যার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে তথ্য-চালিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ হাতে নিয়েছে, যা জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুলভ মূল্যে সার ও উচ্চফলনশীল বীজ সরবরাহ করার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব প্রতিনিয়ত দেশের কৃষি ও অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে। এর মোকাবিলায় সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
জলবায়ু ঝুঁকি প্রশমনে বহুমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার নির্মাণ এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণই করবে না, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।