দুর্নীতি দমনে আন্তরিকতার অভাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা

বাংলাদেশে দুর্নীতিগ্রস্ত পেশার শীর্ষে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের অবস্থান নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার ১৫ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গুগল সার্চ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের দুর্নীতিতে শীর্ষ পেশার তালিকায় রাজনীতিবিদ ও আমলারা যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির এক দুঃখজনক প্রতিফলন।
সংসদে বাজেট আলোচনার সূত্রপাত করে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাবের বিপরীতে তিনি প্রতীকী ৫০০ টাকা হ্রাসের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনীতিবিদদের পেশা হিসেবে রাজনীতি চালিয়ে অর্থ উপার্জন এক বিস্ময়কর ঘটনা। অতীতে ছাগলকাণ্ড, বালিশ দুর্নীতি এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতির চিত্র দেশবাসী দেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে একজন পিয়ন কীভাবে ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে চলেন, তা জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
রুমিন ফারহানা ব্যাংক খাতে লক্ষ-কোটি টাকার লুটপাট, ভুয়া কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্বাস্থ্য খাতে মিঠু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যসহ সরকারি নিয়োগ ও কেনাকাটায় অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নখদন্তহীন বাঘ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যাশা ছিল। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দুদক সংস্কারে অধ্যাদেশ জারি করলেও তা আইনে পরিণত না করার বিষয়টি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকারগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করতে ভয় পায়, কারণ রাজনীতিবিদ ও আমলারা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমান সরকারও যেন সেই একই ধারায় হাঁটছে এবং দুদককে দুর্বল রাখার কৌশল অবলম্বন করছে। অথচ শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হলে তা রাজনীতিবিদ ও আমলাদের জন্য অস্বস্তিকর হবে বলেই সরকার সংস্কারের সাহস দেখাতে পারছে না। এমনকি দুদকের সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে দলীয়করণের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দুর্নীতি প্রতিরোধের পথে বড় বাধা বলে তিনি মন্তব্য করেন।