মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার

সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে সরকার ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪’ জারি করেছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪-এর উপধারা ১ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ১২৫-এর উপবিধি ৪ অনুযায়ী গত ৭ মে ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ এই নির্দেশিকা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। সোমবার ১৫ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা নজরদারিতে রাখার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে স্পিড লিমিট এবং ট্রাফিক সাইন স্থাপন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ট্রাফিক ক্যালমিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাম্বল স্ট্রিপ, স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন, মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশন বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান, মহাসড়কে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম বা আইটিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যারা গতিসীমা লঙ্ঘন করছে, তাদের সহজেই শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গতিসীমা বাস্তবায়নের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
সড়কের ধরন এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় যানবাহনের জন্য উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট ও ট্রাফিক মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতির কারণে যেসব স্থান অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
