দুবাইতে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি আটক হন। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার ভিত্তিতে এবং দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। আন্তর্জাতিক এই পুলিশ সংস্থা তাকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য একজন পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে তাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইন্টারপোলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশের নাগরিক। তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগগুলো এতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি প্রায় ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে অন্তত ২ কোটি ৮২ লাখ টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে গোপন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক এই পুলিশ প্রধান নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক এবং ভোগদখলকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারার আওতায় এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও গোয়েন্দা তথ্যে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
