চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্তের হাতছানি

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এই গুরুত্বপূর্ণ সফর বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার পাশাপাশি দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে আয়োজিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কথা স্মরণ করে বলেন, তার হাত ধরেই বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের শুভ সূচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ ও ২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক সফর সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে সার্ককে কার্যকর করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চীন ‘অবজার্ভার’ রাষ্ট্র হিসেবে সার্কের প্ল্যাটফর্মকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল হাইওয়ে এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক সংকট উত্তরণই এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন

সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউরো, নেপাল জাতীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব গোলাম সরওয়ারসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। ফোরামের আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, যেখানে বাংলাদেশ এবার ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে ৮৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছে।

চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় দলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক জোন এবং তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। চীনের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সম্পর্কিত- প্রধানমন্ত্রী
0%
0%
0%
0%