জিয়াউর রহমানের আদর্শ বিনাশে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য বিএনপিনেতাদের

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেও তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে দেশ থেকে মুছে ফেলা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কাজীর দেউরী মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যে সার্কিট হাউসে শহীদ জিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল, আজও সেই স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের মাটি। বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তার স্বপ্নের সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনগণকে সাথে নিয়েই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদনের উপায় হলো তার আদর্শকে ধারণ করা এবং জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ মানুষই দলের মূল চালিকাশক্তি। জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণের মাধ্যমেই জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শের বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে শহীদ জিয়াউর রহমান যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা ইতিহাসে অনন্য। তিনি খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব এবং পোশাক শিল্প বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে গতি সঞ্চার করেছিলেন, তা আজও অম্লান।

বিজ্ঞাপন

মেয়র শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি আজ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তার প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের আপামর জনসাধারণকে এক নতুন আত্মপরিচয়ে উদ্ভাসিত করেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এছাড়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।

0%
0%
0%
0%