ঈদের প্রাক্কালে এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

পবিত্র ঈদুল আজহার কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে এসে রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে দেখা দিয়েছে তীব্র নগদ অর্থের সংকট। ঈদের ছুটির আগে শেষ কার্যদিবসে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক জায়গায় টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় বুথ অকার্যকর হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও কারিগরি ত্রুটির কারণে সেবা বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

বিজ্ঞাপন

রামপুরা, মতিঝিল ও মগবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথগুলোতে রোববার সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বেসরকারি চাকরিজীবী রহমান মাসুম জানান, রামপুরার একটি বুথে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন যে সেখানে আর কোনো নগদ অর্থ নেই। মতিঝিলের অবস্থাও ছিল প্রায় একই, যেখানে একাধিক বুথ ঘুরেও টাকা না পেয়ে অনেক গ্রাহককে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের প্রধান শাখায় ছুটতে হয়েছে।

ব্যাংক ছুটির সময় নগদ অর্থের জন্য গ্রাহকদের প্রধান ভরসা থাকে এটিএম বুথ। তবে এবার ছুটির আগেই সংকটের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যাংক শাখাতেও পর্যাপ্ত নগদ অর্থের অভাব দেখা গেছে, যার ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সেবা না পেয়ে গ্রাহকদের অন্য শাখায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও সঠিক নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবারই এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাহিদামতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকই অর্থ সংকটের কারণে ফিরে যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব দায়িত্ব হলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী এটিএম ও শাখায় নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করা। কোনো ব্যাংক যদি এ ক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সচল রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই সাথে বুথগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ও কারিগরি ত্রুটি দ্রুত নিরসনের তাগিদও দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনার পূর্ণ প্রতিফলন না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, কেবল নির্দেশনা জারি করলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়, নাকি এর বাস্তবায়ন নিশ্চিতে নিয়মিত কঠোর তদারকি প্রয়োজন?

উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার্থে শনিবার ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও, মাঠপর্যায়ে সেবার মান নিয়ে জনমনে অস্বস্তি কাটছে না।

0%
0%
0%
0%