প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের নিরাপত্তা নজরদারি বাড়াতে ১১ সদস্যের একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানগণ। এছাড়া, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকরাও এই শক্তিশালী কমিটির অংশীদার হয়েছেন।
কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আরও ছয়জন কর্মকর্তাকে সহায়ক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও সিআইডি), বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
কমিটির কার্যপরিধিতে দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাকে প্রধান কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজও করবে এই কমিটি।
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি সুনির্দিষ্ট করা, প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করা অথবা নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাবনা তৈরি করাও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ সকল সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি এবং গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন কমিটির অন্যতম মূল লক্ষ্য।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) এই কমিটির সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে, তবে প্রয়োজন অনুসারে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য কোনো সংস্থাও এই দায়িত্ব পেতে পারে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটির সভা প্রতি মাসে অন্তত একবার অথবা প্রতি তিন মাসে একবার অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী বা অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।