Advertisement

চট্টগ্রামে ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি কমাবে অত্যাধুনিক পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব

চট্টগ্রামের ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস)-এ প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফি-কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি’ বা পেট সিটি স্ক্যান ল্যাব। বর্তমানে ল্যাবটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই এটি রোগীদের সেবায় উন্মুক্ত করার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ এবং প্রতিদিন গড়ে ১২০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে পেট সিটি পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হতো। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত ও আবাসনের বিপুল ব্যয় বহন করতে হতো, তেমনি অসুস্থ শরীরে দূরপাল্লার যাত্রায় রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটত।

বিজ্ঞাপন

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বেসরকারি পর্যায়ে একটি পেট সিটি স্ক্যান করতে বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। তবে চমেক হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই পরীক্ষা চালু হলে খরচ অর্ধেকেরও কমে নেমে আসবে। এছাড়া ইনমাসে পেট সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে সাইক্লোট্রন মেশিন, যা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রেডিও আইসোটোপ উৎপাদন করবে। ভবনের নিচে বিশেষ বাংকারে যন্ত্রপাতি স্থাপন ও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নে পেট সিটি স্ক্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার সময় রোগীকে তেজস্ক্রিয় গ্লুকোজ জাতীয় উপাদান ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এরপর বিশেষ স্ক্যানারের মাধ্যমে ক্যানসার কোষের বিপাকীয় সক্রিয়তা ও শরীরের কোনো অঙ্গে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সাধারণ সিটি স্ক্যান বা এমআরআই দিয়ে টিউমারের আকার জানা গেলেও পেট সিটির মাধ্যমে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা সম্পর্কে অনেক বেশি স্বচ্ছ ধারণা পান।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট মলিকুলার ল্যাবসহ এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ইনমাস চট্টগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ডা. পবিত্র কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে। এখন কারিগরি কাজ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের চূড়ান্ত পর্ব চলছে। এই আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি চালুর ফলে চট্টগ্রামের ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

0%
0%
0%
0%