AdvertisementAdvertisement

সরিষাবাড়ীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক আক্রান্ত আতঙ্কে জনজীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় হঠাৎ করেই বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের উপদ্রব ও আক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত চার দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই কুকুরের দৌরাত্ম্যে জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আক্রান্তদের মধ্যে আওনা ইউনিয়নের দুলাল মিয়া, আয়শা, হাসনা, সাতপোয়া ইউনিয়নের মুক্তা, হাবিবুর রহমান, আনোয়ারা, সালমা এবং কামরাবাদ ইউনিয়নের ইসমাইল, সাজু ও মঞ্জুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ রয়েছেন। এছাড়া পৌরসভার চক হাটবাড়ি ও সৈয়দপুর এলাকার রহিমা, মায়া, আ. রহমান, আয়াত হাসান ও সুলতানসহ অনেক ভুক্তভোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মহাদান, পিংনা ও বিভিন্ন হাটবাজার ও বাড়ির আঙিনায় কুকুরগুলো যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয়রা বর্তমানে দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। জলাতঙ্ক মোকাবিলায় কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি ও কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। আক্রান্তদের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেয়, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী জানিয়েছেন, প্রতিদিন কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহত হয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। গত কয়েক দিনে অর্ধশতাধিক রোগীকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক লিজা রিছিল জানান, পাগলা কুকুরের উপদ্রবের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত এই বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%