খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ফের অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিভাগের ১০টি জেলা ও প্রধান হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৩২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৩২৯ জনের মধ্যে ২৮৮ জনই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এবং ৪১ জন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসালয়মুখী হয়েছেন মোট ১২ হাজার ৬৩২ জন। এই সময় পর্যন্ত বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আরও প্রকাশ পায়, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১১ হাজার ১৪৬ জন। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থান থেকে অন্যত্রে রেফার করা হয়েছে ৩০১ জনকে।
জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল খুলনা জেলাতেই ১০৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথকভাবে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৭ জন এবং এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। সব মিলিয়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষে থাকা এই জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৬৪ জনে এবং মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে।
খুলনার পাশাপাশি বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন ৭৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যেখানে মোট আক্রান্ত ১ হাজার ২৩৬ জন এবং মারা গেছেন ২ জন। এছাড়া ঝিনাইদহে ২৪ জন নতুন ভর্তি নিয়ে মোট আক্রান্ত ৩১১ জন, মাগুরায় ২১ জন নতুন ভর্তি নিয়ে মোট আক্রান্ত ২৬৫ জন এবং নড়াইলে ১৫ জন নতুন ভর্তি নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ জনে। বাগেরহাটে নতুন ১৪ জনসহ মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬২ জন এবং এ পর্যন্ত সেখানে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে নতুন ১৫ জনসহ মোট আক্রান্ত ৫৬৭ জন। পাশাপাশি মেহেরপুরে ৮ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন; চুয়াডাঙ্গায় এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মশা বাহিত এই রোগটির ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশক নিধনে কার্যকর ও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।