নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় তিন একর জমির ওপর ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটি দীর্ঘ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিলঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ২০১৮ সালে নির্মিত এবং ২০২১ সালে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসকের তীব্র সংকট থাকায় অধিকাংশ শয্যা বছরের পর বছর রোগীশূন্য পড়ে থাকছে। উন্নত চিকিৎসাসেবার আশায় আসা রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। একই চিত্র দেখা গেছে অন্যান্য পদের ক্ষেত্রেও; ১৩ জন কর্মচারীর জায়গায় কর্মরত আছেন মাত্র একজন, নার্সের সংখ্যা ১১ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র তিনজন। জনবলের এই চরম ঘাটতির কারণে কাগজে-কলমে আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসলেও চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, অসুস্থ শিশুকে নিয়ে সেবা নিতে আসা রেখা খাতুন দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেও চিকিৎসকের সিরিয়াল পাচ্ছেন না। একই ধরনের অভিযোগ করেন আয়েশা বেগম নামের আরেক রোগী, যিনি হাঁটু ও কোমর ব্যথার চিকিৎসা নিতে এসে দুপুর গড়িয়ে গেলেও চিকিৎসকের দেখা পাননি। রোগীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে তাদের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। শীতকালে রোগীর চাপ বাড়লে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়, যা হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখার দাবি করেছেন নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এ এস এম সায়েম। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি নরমাল ডেলিভারি ও প্রসূতি মায়ের নিরাপদ প্রসবের মতো সেবাগুলো দেওয়া হচ্ছে। আগের তুলনায় সেবার পরিধি বাড়লেও জনবল সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হলে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।