গাইবান্ধায় সুদের ঋণের চাপ সইতে না পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা

ঋণের পাহাড়সমান চাপ এবং পারিবারিক চরম উদ্বেগের জেরে গাইবান্ধা পৌর শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক (৫২) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক গাইবান্ধা শহরের পূর্ব কোমরনই পাড়ার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী পদ্মরাগ লোকাল ট্রেনটি গাইবান্ধা পৌর শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে রেললাইনে ঝাঁপ দেন আবু বক্কর সিদ্দিক। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার করুণ মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে সুদের ওপর চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন আবু বক্কর। গত কয়েক দিন ধরে পাওনাদারেরা সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তাকে তীব্র চাপ দিচ্ছিলেন। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি চরম এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গনি জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের পকেট তল্লাশি করে কয়েক ব্যক্তির নাম সংবলিত একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ওসি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও নিহতের পকেট থেকে পাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, চড়া সুদের ব্যবসা ও ঋণের চাপে পড়ে একজন মানুষের এমন অপমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

০%
০%
০%
০%