বাংলা ব্যান্ড সংগীত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে সমালোচনার মুখে অভিজিৎ ভট্টাচার্য

বলিউডের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অভিজিৎ ভট্টাচার্য বরাবরই তার স্পষ্টভাষী এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি এক পডকাস্টে বাংলা সংগীত জগৎ এবং আধুনিক ব্যান্ড মিউজিকের বর্তমান হালচাল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে গিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই গায়ক। সঞ্চালক অরিজিৎ চক্রবর্তীর মুখোমুখি হয়ে তিনি অকপটে জানিয়েছেন, আজকের বাংলা সংগীতের ধারা তাকে কেবল হতাশাই উপহার দেয়। যোগ্য শিল্পীরা যেখানে আড়ালে থেকে যাচ্ছেন, সেখানে তথাকথিত লোকপ্রিয়তা অর্জনের দৌড়ে মেধার অবক্ষয় ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলা ব্যান্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই আলোচনার মোড় ঘুরে যায় ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’-র দিকে। অভিজিতের মতে, সত্তরের দশকের সেই কিংবদন্তি ব্যান্ডটির গানে ছিল এক গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন। অথচ আজকের অধিকাংশ ব্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি কপি করার বা অনুকরণ করার অভিযোগ তুলেছেন। মজার বিষয় হলো, আলোচনার এক পর্যায়ে মহীনের ঘোড়াগুলির নাম বলতে গিয়ে কিছুটা স্মৃতির বিড়ম্বনায় পড়েন শিল্পী, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ কৌতুক তৈরি হয়েছে।
আধুনিক পরিবেশনা শৈলী নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন অভিজিৎ। তার ভাষায়, মঞ্চে শুধু চুল ঝাঁকিয়ে বা অকারণে চিৎকার করলেই তা গান হয় না। সংগীতের ক্ষেত্রে কান ও চোখের প্রশান্তির যে মেলবন্ধন প্রয়োজন, আজকের শিল্পীদের মধ্যে তার অভাব প্রকট। এমনকি রূপম ইসলামের ব্যান্ড ‘ফসিলস’-এর নাম উচ্চারিত হলে, তাদের মিউজিককেও তিনি মহীনের ঘোড়াগুলির ছায়া বলে মন্তব্য করেন। যদিও নিজেকে রসিকতার ছলে ‘আউটডেটেড’ বলে দাবি করেছেন, কিন্তু তার সুর ও মেধার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়াটা ছিল স্পষ্ট।
এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা রক সংগীতের ভক্তদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রোতাদের একাংশ রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ ভক্তদের মতে, অভিজিৎ যখন মুম্বাইয়ে হিন্দি গান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখন বাংলার শ্রোতাদের আবেগ ধারণ করে রেখেছিল ফসিলস বা ক্যাকটাসের মতো ব্যান্ডগুলো। তাদের মতে, বাংলা রক মিউজিক সম্পর্কে এমন জ্ঞানহীন মন্তব্য করা অভিজিতের সাজে না। অনেকের অভিযোগ, কেবল ভিউ পাওয়ার আশায় অকারণে বিতর্ক উসকে দেওয়ার জন্যই এমন সব মন্তব্য করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে গায়কের এই বক্তব্য বাংলা সংগীত পাড়ায় এক নতুন বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
