বলিউডের গ্ল্যামার থেকে লড়াইয়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নেহা ধুপিয়ার দুই দশকের ক্যারিয়ার যাত্রা

২১ বছর বয়সে মাথায় উঠেছিল সৌন্দর্যের মুকুট, আর সেই জৌলুসপূর্ণ প্রাপ্তিই বলিউডের রঙিন দুনিয়ায় নেহা ধুপিয়ার যাত্রার সূচনা করেছিল। তবে গ্ল্যামারের এই আলোকবৃত্তে টিকে থাকার লড়াইটা যে মোটেও সহজ ছিল না, তা আজ দুই দশকেরও বেশি সময়ের পথচলায় প্রমাণ করেছেন এই তারকা। আজ ২৭ আগস্ট, বলিউডের অন্যতম স্পষ্টভাষী ও সাবলীল অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়ার জন্মদিন। ১৯৮০ সালের এই দিনে কোচিতে জন্মগ্রহণ করা নেহার শৈশব কেটেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর আবহে এক সুশৃঙ্খল পরিবেশে, যা তাঁর পরবর্তী জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে গভীর ছাপ ফেলেছে।
২০০২ সালের ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় ২৬ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে যখন তিনি ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’-এর মুকুট ছিনিয়ে নিলেন, তখনই সবার নজরে আসেন তিনি। বুদ্ধিমত্তা আর সৌন্দর্যের মিশেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভারত-পাকিস্তানের অস্থির সময়ে বিশ্বশান্তির ডাক দিয়ে তিনি বিচারকদের মন জয় করেছিলেন। এরপর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে বলিউডে পদার্পণ করেন ২০০৩ সালের ‘কায়ামত: সিটি আন্ডার থ্রেট’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন ২০০৪ সালের ‘জুলি’ সিনেমার সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে। সেই জনপ্রিয়তার পিঠেই জুড়ে গিয়েছিল ‘সেক্স সিম্বল’-এর তকমা, যা একসময় তাঁর জন্য অভিনয়ের সীমাবদ্ধতার খাঁচায় পরিণত হয়।
পরবর্তী সময়ে নেহা সচেতনভাবে সেই খোলস ভাঙার চেষ্টা করেছেন। ‘এক চাল্লিশ কি লাস্ট লোকাল’, ‘মিথ্যা’ কিংবা ‘ফাস গয়ে রে ওবামা’র মতো বৈচিত্র্যময় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয়দক্ষতাই তাঁর শক্তির জায়গা। বিশেষ করে ২০১৭ সালে ‘তুমহারি সুলু’ সিনেমায় বিদ্যা বালানের সাথে তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। মাতৃত্বের পর বলিউডে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া কিংবা ওজন নিয়ে নানামুখী কটাক্ষ—সবই তিনি সামলেছেন অসীম সাহসিকতায়। কিন্তু কাজের অপেক্ষায় ঘরে বসে থাকার পাত্রী তিনি নন। অভিনয় তো বটেই, পডকাস্টের জগত ‘নো ফিল্টার নেহা’, রিয়েলিটি শো এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় নিজেকে করেছেন অনন্য।
ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতা অঙ্গদ বেদির সঙ্গে সংসার এবং মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনবোধে এনেছে নতুন গভীরতা। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ যাত্রায় নানা বিতর্ক, এমনকি ‘রোডিজ’-এর মতো রিয়েলিটি শোতে শারীরিক নির্যাতন বিরোধী মত প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও তিনি ছিলেন অবিচল। নেহা কখনোই হাল ছাড়েননি। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের সুযোগ নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়। ২২ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ তিনি এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে, যেখানে সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজের বাইরেও তিনি নিজের সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। গ্ল্যামার আর অভিনয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে বিনোদন জগতের এই দীর্ঘ দৌড়ে টিকে থাকাই যে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন, তা আজ তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট। নিজেকে ছাপিয়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন রূপে আবির্ভূত হওয়ার এই অদম্য জেদই নেহা ধুপিয়াকে আজকের দিনে এক অন্য উচ্চতায় বসিয়েছে।
