নমক হালাল সিনেমার শুটিংয়ে পরিচালককে সেট থেকে বের করে দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের রুপালি পর্দায় অমিতাভ বচ্চনের দাপট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে সিনেমার সেটে কিংবদন্তি এই অভিনেতার কঠোর পেশাদারিত্বের নজির আজও চলচ্চিত্রপাড়ায় আলোচনার খোরাক জোগায়। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল কালজয়ী সিনেমা ‘নমক হালাল’-এর শুটিংয়ের সময়। পর্দায় যিনি সর্বদা মার্জিত ও শান্ত, সেই অমিতাভই এক পর্যায়ে পরিচালককে সেট থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তবে এটি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং কাজের প্রতি একনিষ্ঠতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
‘নমক হালাল’ সিনেমার আইকনিক সংলাপ ‘আই ক্যান টক ইংলিশ, আই ক্যান ওয়াক ইংলিশ, আই ক্যান লাফ ইংলিশ বিকজ ইংলিশ ইজ আ ভেরি ফানি ল্যাঙ্গুয়েজ’ আজও দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে। সেই দৃশ্যটি ধারণের সময় ঘটেছিল অদ্ভুত এক কাণ্ড। অমিতাভ যখন সংলাপটি বলছিলেন, তখন পরিচালক প্রকাশ মেহরা হাসিতে ফেটে পড়ছিলেন। বারবার পরিচালকের এই অট্টহাসিতে অভিনয়ে মনোনিবেশ করতে পারছিলেন না অমিতাভ। সেটে পূর্ণ একাগ্রতা বজায় রাখতে পরিচালককে শান্ত থাকতে অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজের অভিনয়ের মান বজায় রাখতে অমিতাভ সরাসরি প্রকাশ মেহরাকে সেটের বাইরে চলে যেতে বলেন। অভিনেতার এই দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কাছে হার মানেন পরিচালক এবং হাসিমুখে সেট ছেড়ে চলে যান। এরপর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই অমিতাভ দৃশ্যটির কাজ শেষ করেন।
সেই সময় সিনেমাটি নিয়ে কেবল ক্যামেরার পেছনের গল্পই নয়, বরং কাস্টিং নিয়েও ছিল নানা সমীকরণ। সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের সঙ্গে অমিতাভের কাজের রসায়ন বা ব্যক্তিগত সমীকরণ নতুন মোড় নিচ্ছিল। রেখার সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য নায়িকাদের নিয়ে অমিতাভের অনাগ্রহের ফলে সিনেমাটিতে নায়িকা নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত অমিতাভের পরামর্শেই স্মিতা পাতিলকে চূড়ান্ত করা হয়।
‘নমক হালাল’ ছিল শশী কাপুর এবং অমিতাভ বচ্চন জুটির প্রধান অভিনেতা হিসেবে অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র। এই জুটির রসায়ন ভক্তদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছিল। যদিও পরবর্তীতে ‘আকায়লা’ কিংবা শশী কাপুরের পরিচালিত ‘আজুবা’ সিনেমায় দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে, কিন্তু ‘নমক হালাল’-এর সেই সোনালী দিনগুলো আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
