Advertisement

সংগ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে ডুয়া লিপার সাফল্যের উপাখ্যান

বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডুয়া লিপা। ২২ আগস্ট, এই অসামান্য পপ তারকার ৩১তম জন্মদিন। একসময় যুদ্ধের ভয়াবহতায় যে পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছিল ভিনদেশি আশ্রয়ে, সেই পরিবারেরই অদম্য এক কন্যা আজ বিশ্বসংগীতের সিংহাসন কাঁপানো এক নাম। গান, ফ্যাশন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ডুয়া লিপার জীবন যেন আধুনিক পপ সংস্কৃতির এক আখ্যান।

লন্ডনের মাটিতে ১৯৯৫ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া ডুয়া লিপার জীবন কখনোই মসৃণ ছিল না। কসোভোর সংঘাত থেকে বাঁচতে তাঁর বাবা দুজাগিন লিপা ও মা আনেসা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন লন্ডনে। জীবন সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতায় রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নানা পেশায় কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। তবে অভাবের আঁধারেও সংগীতের আলো নেভেনি কখনো; বাবার কণ্ঠে রক মিউজিকের সুর আর পারিবারিক সংগ্রামের গল্পই ডুয়াকে দিয়েছিল সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার রসদ।

বিজ্ঞাপন

মাত্র ১৫ বছর বয়সে অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে একা লন্ডনে ফিরে আসা ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর অধ্যায়। একা জীবন সামলানো, পড়াশোনা আর গানের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম—সবই তিনি করেছেন নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে। ইউটিউব ও সাউন্ডক্লাউডে কভার গান প্রকাশের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে নজর কাড়তে শুরু করেন এই শিল্পী। ২০১৭ সালে প্রকাশিত নিজের নামেই প্রথম অ্যালবাম ‘ডুয়া লিপা’ আর পরবর্তীতে ‘নিউ রুলস’ গানের অভাবনীয় সাফল্য তাঁকে রাতারাতি বিশ্বতারকায় পরিণত করে।

২০২০ সালের অ্যালবাম ‘ফিউচার নস্টালজিয়া’ ছিল ডুয়ার ক্যারিয়ারের মাইলফলক। ডিস্কো ও আধুনিক পপের মিশেলে তৈরি গানগুলো মহামারির বন্দিদশায় বিশ্ববাসীকে দিয়েছিল নতুন প্রাণশক্তি। সংগীতের পাশাপাশি ফ্যাশন ও অভিনয় জগতেও তিনি এখন এক আইকন। বিশেষ করে ‘বার্বি’ সিনেমার ‘ড্যান্স দ্য নাইট’ গানটি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে মুক্তি পায় তাঁর তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘র‍্যাডিক্যাল অপটিমিজম’।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিজীবনের সমীকরণগুলোও ডুয়া লিপার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ অভিনেতা ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে দীর্ঘ প্রেমের পর ২০২৬ সালের মে মাসে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই তারকা। লন্ডনের ওল্ড মেরিলিবোন টাউন হলে ঘটা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তাঁরা। বর্তমানে সংসারে থিতু হওয়ার পাশাপাশি জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে দারুণ আশাবাদী এই দম্পতি।

শুধু গান আর গ্ল্যামার নয়, ডুয়া লিপা আলোচনায় এসেছেন তাঁর মানবিক অবস্থান ও স্পষ্টবাদিতার কারণেও। গাজার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার আওয়াজ তুলেছেন বিশ্বনেতাদের কাছে। নিজের পরিবারের শরণার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মানবতার কথা বলেছেন জোর গলায়। ‘আর্টিস্ট ফর সিজফায়ার’-এর মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়ে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আর্থিক সাফল্যের নিরিখেও ডুয়া লিপা আজ এক বিস্ময়। ২০২৬ সালের ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্ট’ অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড বা আড়াই হাজার কোটি টাকা। সংগীত সফর, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট আর ব্যবসায়িক বুদ্ধির সমন্বয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের শিখরে। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই সংগীতের পাশাপাশি মানবিকতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে ডুয়া লিপা আজ কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা।

0%
0%
0%
0%