Advertisement

পেপ পরবর্তী যুগে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন চ্যালেঞ্জ এনজো মারেস্কার কাঁধে

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এক দশকের সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায়ের ইতি টেনে পেপ গার্দিওলার প্রস্থানের পর নতুন মৌসুমে দলটির ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন এনজো মারেসকা। গার্দিওলার অধীনে দলটি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফিসহ ইংলিশ ফুটবলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। সেই সাফল্যের উত্তরাধিকার বহন করা মারেসকার জন্য নিঃসন্দেহে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। রবিবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে লিগ অভিযানের শুরুর প্রাক্কালে নতুন এই কোচের সামনে এখন বড় পাঁচ প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে।

মারেসকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুটা অবশ্য সুখকর হয়নি। গত রবিবার কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে আর্সেনালের কাছে ০-৩ ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছে সিটি। দলের এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মারেসকা বিশ্বকাপের ধকল এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম গোল হজমের পর দল ভালো প্রতিক্রিয়া দেখালেও দ্বিতীয় গোলের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছিল। গার্দিওলার ফুটবল দর্শনের সাথে মারেসকার পরিচয় থাকলেও, তাকে এখন দ্রুত নিজের স্বকীয়তা প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে, খেলোয়াড় ও স্টাফদের সাথে মাঝে মাঝে তার বিরোধের বিষয়টি দলের অন্দরমহলে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মাঠের পারফরম্যান্সেও বড় ধাক্কা খেয়েছে সিটি। দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন, যা সিটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী ও টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বল জেতা এই তারকার বিকল্প হিসেবে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে ভিড়িয়েছে সিটি। তবে অ্যান্ডারসন রদ্রির মতো হোল্ডিং মিডফিল্ডার নন, বরং একজন বক্স-টু-বক্স খেলোয়াড়। এছাড়া লিল থেকে ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বোয়াদ্দিকে দলে টানার গুঞ্জন থাকলেও, তরুণ এই খেলোয়াড় কতটা কার্যকর হবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

বিজ্ঞাপন

গত মৌসুমে লিগ শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা। সিটি জয়ী অবস্থানে থেকেও ১৭ পয়েন্ট হারিয়েছিল। মারেসকার রক্ষণাত্মক বিচক্ষণতা এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তবে জন স্টোনস, বার্নার্ডো সিলভা এবং নাথান আকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিদায়ে নতুন খেলোয়াড়রা এই কৌশলের সাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

আক্রমণভাগে আর্লিং হাল্যান্ড দলের প্রধান ভরসা হিসেবে থাকলেও, শুধু তার ওপর নির্ভরতা গত মৌসুমে দলকে ভুগিয়েছে। ওমর মারমুশ দলে থাকলেও তিনি হাল্যান্ডের সমকক্ষ নন, তাই মারেসকাকে আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য আনার নতুন পথ খুঁজতে হবে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ধাপে সিটির ছয়জন খেলোয়াড় ব্যস্ত থাকায় প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই বাস্তবতায় মারেসকা কীভাবে সিটিকে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন।

সম্পর্কিত- খবর
0%
0%
0%
0%