যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে বিজেপি বিধায়কের হুঙ্কারে সরব অভিনেতা ঋদ্ধি সেন

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের জেরে সৃষ্ট সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিতর্কিত হুঁশিয়ারি নিয়ে এবার সরব হলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। নিজের স্পষ্টবাদী স্বভাবের জন্য পরিচিত ঋদ্ধি এবার সোশাল মিডিয়ায় বিধায়কের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন।
নির্বাচনী জয় পাওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং মানসিকতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ঋদ্ধি। অভিনেতার মতে, ভোটের মার্জিন বাড়লে অনেকের গলার স্বরও অস্বাভাবিকভাবে চড়ে যায়। কাজ বা পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করার ক্ষমতা নেই বলেই অনেকে চিৎকার এবং ঘৃণার রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছেন বলে মনে করেন এই তারকা। ঋদ্ধি আরও স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, অসত্য বা অন্যায়কে যে চিরকাল আড়াল করে রাখা সম্ভব নয়, তা রাজনীতিকদের বুঝতে শেখা উচিত।
শুধু রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, বিধায়কের বাচনভঙ্গি ও গলার স্বরের ওঠানামা নিয়েও বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি ঋদ্ধি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে ‘ভোকাল মডুলেশন’ বা কণ্ঠস্বরের ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বিধায়ককে পরামর্শ দিয়েছেন, অভিনয়ে আরেকটু মনযোগ দেওয়ার জন্য। ঋদ্ধির কথায়, সাজপোশাক ঠিক থাকলেও উঁচু স্কেলে নাগাড়েই চিৎকার করে কথা বললে তা শুনতে অত্যন্ত একঘেয়ে লাগে।
উল্লেখ্য যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত কর্মীদের খোঁজ নিতে গিয়ে শর্বরী মুখোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশবিরোধী শক্তির আখড়া হতে দেওয়া হবে না। এমনকি অভিযুক্তদের এক ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি দিয়েছিলেন চরম হুঙ্কার। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঋদ্ধি সেনের এই সপাটে মন্তব্য টলিপাড়ার অন্দরে আলোচনার নতুন খোরাক জুগিয়েছে। শিল্পীদের রাজনীতির আঙিনায় সরব হওয়ার ক্ষেত্রে ঋদ্ধি যে ফের একবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন, তা এই পোস্ট থেকেই পরিষ্কার।
