Advertisement

ইনায়ার ঘুমের রুটিনে আপসহীন সোহা আলি খান মেনে চলেন কঠোর নিয়ম

মায়ের ভূমিকায় অভিনয় হোক কিংবা বাস্তব জীবনের অভিভাবকত্ব, তারকাদের জীবন বরাবরই ভক্তদের কাছে এক বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে বলিউড অভিনেত্রী সোহা আলি খান যখন নিজের সন্তান লালন-পালনের অন্দরমহলের গল্প শোনান, তখন তা মাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মেয়ে ইনায়া নাওমি খেমুর বেড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে সোহা যে সুশৃঙ্খল জীবনধারা গড়ে তুলেছেন, তা আধুনিক বাবা-মায়েদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

নিজের পেরেন্টিং স্টাইল নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় সোহা জানান, ইনায়ার দৈনন্দিন রুটিনে তিনি কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নন। বিশেষ করে ঘুমের সময়ের ক্ষেত্রে অভিনেত্রী রীতিমতো আপসহীন। রাত ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ইনায়ার বিছানায় যাওয়া বাধ্যতামূলক। প্রথমদিকে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে এই নিয়ম কিছুটা কঠোর মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই তা মেনে নিয়েছেন। সোহা হাস্যরস করে বলেন, ঘড়ির কাঁটায় রাত ৮টা বাজলেই নাকি তিনি এক অন্যরকম কঠোর শাসকে পরিণত হন।

বিজ্ঞাপন

নিজের ঘুমের রুটিন নিয়েও বেশ সচেতন এই তারকা। তিনি নিজে রাত সাড়ে দশটার মধ্যে ঘুমের চেষ্টা করেন। এই সুশৃঙ্খল অভ্যাসের পেছনে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তাঁর মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তিন সন্তানের মা হয়েও কীভাবে তিনি ক্যারিয়ার ও সংসারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন, তা সোহার কাছে এক বড় শিক্ষা। শর্মিলা ঠাকুরের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন যে, রুটিন মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই এক প্রশান্তির চাবিকাঠি।

শুধু ঘুমই নয়, ইনায়ার মধ্যে শৈশব থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য সোহা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে মাঝে মাঝে তাকে বিশেষ পুরস্কার বা প্রলোভনের কৌশলও অবলম্বন করতে হয়। তবে সোহার মতে, নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে অভিভাবক হিসেবে নিজেদের আচরণের মাধ্যমে সন্তানের সামনে উদাহরণ স্থাপন করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিজের জীবনে যেসব নিয়মের প্রতিফলন ঘটে, সন্তানও ঠিক সেভাবেই নিজেকে গড়ে তোলে—এটিই সোহার সুখী ও শৃঙ্খলিত পরিবারের মূল দর্শন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%