Advertisement

সুগন্ধি চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি কোটা পুনর্মূল্যায়ন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বাণিজ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে সরকার পূর্বে প্রদত্ত রপ্তানির কোটা পুনর্বিবেচনা ও তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রপ্তানির অনুমতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানিকৃত চালের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ২ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি অথবা আংশিক রপ্তানি সম্পন্ন করেছে। অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে এই বিশাল ব্যবধান অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে অতি মুনাফার প্রবণতা ঠেকাতে মন্ত্রণালয় এখন কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে শীর্ষ ১০টি মিলমালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় মূলত অব্যবহৃত রপ্তানি কোটা বাতিল বা হ্রাস করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন সচল রাখতে চায়।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় কমে ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলারে নেমে আসে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাময়িক স্থগিত করা হয় রপ্তানি কার্যক্রম। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই খাতের আওতায় বর্তমানে ১৩০টিরও বেশি দেশে কালিজিরা, চিনিগুঁড়া, বাদশাভোগ ও কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হয়।

দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হলেও রপ্তানির পরিমাণ গড়ে ১০ হাজার টনের কাছাকাছি থাকে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে, রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য আনাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পরেই অব্যবহৃত কোটা সংকুচিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

0%
0%
0%
0%