AdvertisementAdvertisement

মানুষ নয় প্রকৃতির প্রেমে মগ্ন সব্যসাচী চক্রবর্তী

ঢালিউড থেকে টলিউড, রূপালী পর্দার গ্ল্যামারের চাকচিক্যে সব্যসাচী চক্রবর্তী এক অনন্য নাম। ‘শ্বেত পাথরের থালা’র সেই আবেগ হোক কিংবা ফেলুদার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিদীপ্ত চাহনি, সব্যসাচী মানেই এক কিংবদন্তি সত্তা। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কাজের পাহাড় গড়ে তুললেও ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ বরাবরই ছিল এক রহস্যের গোলকধাঁধা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘ পথচলায় কখনও কোনো স্ক্যান্ডাল কিংবা পরকীয়ার গুঞ্জনে নাম জড়ায়নি এই অভিনেতার। তবে কি পর্দার এই রোমান্টিক মানুষটি বাস্তবের জমিনে শুধুই নিরস?

অভিনেত্রী মিঠু চক্রবর্তী এক আড্ডায় স্বীকার করেছিলেন, পর্দার আড়ালে সব্যসাচী আদ্যোপান্ত একজন রোমান্টিক মানুষ। কিন্তু নিজের প্রেমের সংজ্ঞাকে বরাবরই তিনি রেখেছেন গণ্ডির বাইরে। সম্প্রতি এক খোলামেলা কথোপকথনে সব্যসাচী সোজাসাপ্টা জানালেন, মানুষের প্রেমে তিনি কখনো পড়েননি, তবে তার হৃদয়ের দখল নিয়েছে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী আর ক্যামেরা। তার ভাষ্যমতে, মানুষ বড্ড রহস্যময় এবং ভয়ংকর; তাই সম্পর্কের জটিলতায় না গিয়ে নিজের পরিবারকেই তিনি শ্রেষ্ঠ আশ্রয় বলে মনে করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সব্যসাচীর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, মানুষের ওপর অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করাটা তার ধাতে নেই। তাই কোনো সম্পর্কের নিগড়ে আটকে পড়া কিংবা নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানোর অবকাশ তার জীবনে কখনোই আসেনি। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধ থাকাই প্রকৃত নৈতিকতা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উৎসর্গ করতে চেয়েছেন তার প্রিয়জনদের, যেখানে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশাধিকার নেই।

তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়েও নিজেকে প্রচারের আলো থেকে সরিয়ে রাখতে পছন্দ করেন এই গুণী অভিনেতা। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা তার নেই বললেই চলে। তিনি বিশ্বাস করেন, মহাকালের স্রোতে সবাই একসময় হারিয়ে যায়; তবে কেন তাকে মনে রাখতে হবে, সেই অমোঘ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ইতিহাসের বড় বড় অর্জনগুলোই যেখানে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়, সেখানে একজন অভিনেতাকে মনে রাখার আবদার নিতান্তই অর্থহীন। বিনয়ী এই শিল্পী বরং চান এক সাধারণ মানুষের মতো অনাড়ম্বরভাবে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়ে দিতে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%