পলিসিলিকন আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা তুঙ্গে

সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেল শিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল পলিসিলিকনের ওপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার এক নির্বাহী আদেশে এই শুল্কের পাশাপাশি পলিসিলিকন ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক দীর্ঘ তদন্ত ও চীনের চিপশিল্পের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন এই কঠোর সুরক্ষাবাদী অবস্থান গ্রহণ করল। আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে হোয়াইট হাউস।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মার্কিন পলিসিলিকন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হেমলক সেমিকন্ডাক্টর এবং ওয়াকার কেমিরের জন্য বড় ধরনের সুবিধা বয়ে আনতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক দশকে বিদেশি আধিপত্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৫ সালে বিশ্ববাজারে মার্কিন পলিসিলিকন উৎপাদনের হার ৫০ শতাংশ থাকলেও, ২০২৪ সালে তা ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সামরিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক পণ্যে পলিসিলিকনের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই খাতের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেছে। বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন সরকারের এই রক্ষণশীল নীতি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেইজিং প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় চিপশিল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির এই বাণিজ্য উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করল। এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন গত বছরের মে মাস থেকে স্থগিত থাকা দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বাণিজ্যিক অস্থিরতা নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সাম্প্রতিক কৌশলী পদক্ষেপের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত এই শুল্ক আরোপ। এর আগে ড্রোন ও মানবসদৃশ রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনও সম্প্রতি ড্রোন রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি মার্কিন প্রিন্টার ও ফটোকপি যন্ত্রের ওপর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পর্যালোচনা শুরু করেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই বাণিজ্যযুদ্ধ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
