বক্স অফিসে স্পাইডারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির জয়যাত্রা ও নতুন রেকর্ডের ইতিহাস

বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ের মণিকোঠায় যে সুপারহিরোটি সিংহাসন গেড়ে বসে আছেন, তিনি নিঃসন্দেহে স্পাইডার-ম্যান। মার্ভেল স্টুডিওস এবং সনি পিকচার্সের এই মাকড়সা মানব কেবল জনপ্রিয়তার শিখরেই নেই, বরং বক্স অফিসে প্রতিটি নতুন মুক্তি যেন এক একটি সোনার খনি উন্মোচনের মতো। ২০০২ সালে টোবি ম্যাগুয়ারের হাত ধরে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ টম হল্যান্ডের হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান শতকে মুক্তি পাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ১১টি সিক্যুয়েল নিজেদের সাথেই প্রতিযোগিতায় মেতে গড়েছে আয়ের অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড।
সবশেষ চমক হিসেবে দর্শকদের সামনে এসেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রথম সপ্তাহেই ৩৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডমেস্টিক ওপেনিংয়ের খেতাব জিতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সিনেমাটির মোট আয় ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে স্পাইডার-ম্যান ক্রেজ এখনো তুঙ্গে।
স্মৃতির পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ মহামারীর পরবর্তী সময়ে সিনেমা হলগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিল। টোবি ম্যাগুয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের নস্টালজিক উপস্থিতিতে ভর করে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ১.৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করে সনি পিকচার্সের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সিনেমার মুকুট পরেছে। একইভাবে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ ১.১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
অ্যানিমেশন দুনিয়াতেও মাকড়সা মানব জাদুর কাঠির ছোঁয়া বুলিয়েছে। ‘স্পাইডার-ম্যান: অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’—উভয়ই ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও দারুণ গল্পের সংমিশ্রণে বিশ্বজয় করেছে। বিশেষ করে, মাইলস মোরেলেসের মাল্টিভার্স অভিযানের প্রথম অ্যানিমেটেড ছবিটি অস্কার জয়ের পাশাপাশি বক্স অফিসেও কুড়িয়েছে ব্যাপক সাফল্য।
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে টম হল্যান্ডের একক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’-এর মাধ্যমে, যা ৮৮০.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। এর আগে অ্যান্ড্রু গারফিল্ড অভিনীত ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজ দুটি যথাক্রমে ৭৫৮ মিলিয়ন ও ৭০৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছিল।
সিনেমা ইতিহাসের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা আজও ভুলবার নয়। ২০০২ সালে টোবি ম্যাগুয়ারের ‘স্পাইডার-ম্যান’ ৮২৫.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে আধুনিক সুপারহিরো সিনেমার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ‘স্পাইডার-ম্যান ২’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান ৩’ যথাক্রমে ৭৯৫.৯ মিলিয়ন ও ৮৯৪.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে একেকটি মাইলফলক স্থাপন করে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রমাণ করেছে যে, পিটার পার্কারের গল্প কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও আয়ের এক অবিসংবাদিত উৎস।
