AdvertisementAdvertisement

রক সংগীতে নারী বিপ্লবের অগ্রপথিক দ্য রানঅ্যাওয়েজ এবং তাদের কালজয়ী প্রভাব

রক সংগীতের পুরুষতান্ত্রিক দুর্গে নারী কণ্ঠের গর্জন যে খুব একটা সহজ ছিল না, তা আজ ইতিহাস। তবে সেই গতানুগতিক ছক ভেঙে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিপ্লবের নাম হয়ে ওঠে ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’। মাত্র পাঁচ কিশোরীর সমন্বয়ে গঠিত এই ব্যান্ডটি বিশ্ব সংগীতে যে শক্তিশালী পদচিহ্ন রেখে গেছে, তা আজও নতুন প্রজন্মের নারী রকস্টারদের কাছে অনুপ্রেরণার এক জ্বলন্ত উৎস।

ষাটের দশকের ‘গোল্ডি অ্যান্ড দ্য জিঞ্জারব্রেডস’ কিংবা ‘ফ্যানি’র মতো অগ্রগামী ব্যান্ডের হাত ধরে পথ প্রশস্ত হলেও, ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’-এর সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। কিম ফাওলির হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই ব্যান্ডের মূল লাইনআপে ছিলেন জোয়ান জেট, স্যান্ডি ওয়েস্ট, শেরি কারি, লিটা ফোর্ড এবং জ্যাকি ফক্স। ১৯৭৫ সালে হলিউডের রেইনবো বার অ্যান্ড গ্রিলের পার্কিং লটে শুরু হওয়া সেই অদম্য যাত্রাই পরবর্তীতে ‘দ্য ব্যাঙ্গলস’, ‘এল সেভেন’ বা ‘দ্য গো-গোজ’-এর মতো ব্যান্ডগুলোর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

১৯৭৬ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসার পর ‘চেরি বম্ব’ গানটি বিশ্বব্যাপী রকপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করে। তাদের গানে গ্ল্যাম রক, হার্ড রক ও পাওয়ার পপের যে দুর্দান্ত মিশ্রণ ছিল, তা তৎকালীন রক্ষণশীল সংগীত সমালোচকদেরও স্তব্ধ করে দিয়েছিল। যদিও নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সময় তাদের কেবল একটি ‘সাজানো প্রকল্প’ হিসেবে দেখার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু জাপানের কনসার্টগুলোতে তাদের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। সেই জনপ্রিয়তা বিটলসের আমলের হুলস্থুলকেও হার মানাত।

সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। প্রযোজক কিম ফাওলির কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যান্ড সদস্যদের ব্যক্তিগত সংকট একসময় তাদের ভাঙনের দিকে ঠেলে দেয়। ১৯৭৯ সালে ব্যান্ডের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটলেও এর সদস্যরা থেমে থাকেননি। জোয়ান জেট তার ‘জোয়ান জেট অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাকহার্টস’ নিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন, আর লিটা ফোর্ড আশির দশকের অন্যতম সফল মেটাল গিটারিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘দ্য রানঅ্যাওয়েজ’ কেবল একটি ব্যান্ড ছিল না; এটি ছিল একটি ঘোষণাপত্র। তারা প্রমাণ করেছিল, গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপানোর অধিকার কেবল পুরুষদের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। তাদের সেই বিদ্রোহী সুর আজও প্রতিধ্বনিত হয় প্রতিবার যখন কোনো তরুণী সাহসের সঙ্গে ইলেকট্রিক গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়ান।

0%
0%
0%
0%