গ্র্যামির ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের ভিডিও অপসারণ ঘিরে বিতর্কের ঝড়

বিশ্বজুড়ে সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি গ্র্যামির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের অবিস্মরণীয় দুটি লাইভ পারফরম্যান্সের ভিডিও রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ২০২১ সালে ‘ডায়নামাইট’ এবং ২০২২ সালে ‘বাটার’ গানের সেই জাদুকরী পরিবেশনাগুলো এখন আর গ্র্যামির প্ল্যাটফর্মে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা, বিশেষ করে আগামী গ্র্যামিতে ব্যান্ডটির অংশগ্রহণ না করার ঘোষণার পরপরই এমন পদক্ষেপের পেছনে কোনো প্রতিহিংসা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভক্তরা।
ঘটনার সূত্রপাত বিটিএসের সাম্প্রতিক এক সাহসী ঘোষণার মধ্য দিয়ে। আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন জনপ্রিয় এই সাত তারকা। বিটিএসের ভাষ্যমতে, সংগীতকে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানার গণ্ডিতে আটকে না রেখে তার নিজস্ব গুণেই মূল্যায়ন করা উচিত। এই সিদ্ধান্তটি মূলত রেকর্ডিং একাডেমির নতুন প্রবর্তিত ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ বিভাগের প্রতি এক প্রকার নীরব প্রতিবাদ বলে মনে করছেন সংগীত বিশ্লেষকরা।
এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়ে এশীয় শিল্পীরা মূলধারার ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ বিভাগে লড়াইয়ের সুযোগ হারাবেন কি না, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সমালোচকদের মতে, সংগীতকে ভাষার ভিত্তিতে আলাদা করাটা এক ধরনের বৈষম্য। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব টেড চুং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি এশীয় শিল্পীদের আলাদা ক্যাটাগরিতে রাখা হয়, তবে ল্যাটিন সংগীতের শিল্পীদের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সংগীতের বিশ্বজনীনতাকে খর্ব না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি বিটিএসের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, নতুন এই বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। যদিও সংগীতবোদ্ধাদের বড় একটি অংশ মনে করেন, অঞ্চলভিত্তিক এই বিশেষ বিভাগটি শেষ পর্যন্ত অ-পাশ্চাত্য শিল্পীদের মূলধারার বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে বন্দি করে ফেলবে। ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনাটি এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে, আর সংগীতপ্রেমীরা এখন উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
