AdvertisementAdvertisement

জিয়া খান মৃত্যু মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুরজ পাঞ্চোলির মুখ খুললেন অভিনেতা

বলিউড অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলির জীবনের দীর্ঘ এক দুঃসময়ের নাম জিয়া খান আত্মহত্যা মামলা। দশকের পর দশক ধরে এই আইনি লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর, সিবিআই আদালতের রায়ে মুক্তি পেলেও যেন পিছু ছাড়ছে না পুরোনো বিতর্ক। বহু বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে এই অভিনেতাকে। অবশেষে নিজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে নীরবতা ভাঙলেন সুরজ। ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, আইনি লড়াইয়ের পর এখন তিনি একজন মুক্ত মানুষ এবং অহেতুক প্রশ্নের তীর ছোড়া বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সুরজ পাঞ্চোলি আক্ষেপের সুরে লেখেন, দীর্ঘ চৌদ্দটি বছর আইনি প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধায় কেটেছে তাঁর জীবনের মূল্যবান সময়। আদালতের রায়ের পরও যারা সংশয় প্রকাশ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে অভিনেতার বার্তা—তথ্য যাচাই না করে আর কোনো ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলা কাম্য নয়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের নির্দেশে সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তাই আদালতের রায়ের ওপর আস্থা রাখা এবং সম্মান জানানোই এখন একান্ত প্রয়োজন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্মৃতির পাতা উল্টে সুরজ জানান, যখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর। জিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের স্থায়িত্ব ছিল মোটে চার মাসের। সেই স্বল্প সময়ে মানুষটির মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা অতল যন্ত্রণা বা মানসিক অবস্থা অনুধাবন করা তাঁর মতো তরুণের পক্ষে অসম্ভব ছিল। সেই ঘটনার পর থেকে সুরজের জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। প্রতিটি দিন নতুন এক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে, যেখানে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

জিয়া খানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই অভিনেতা জানালেন, তিনি কখনো জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন বা তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে জনসমক্ষে কোনো কটু মন্তব্য করেননি। অথচ নিরন্তর নিন্দার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এখন নিজের সম্মানটুকু ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখেন বলে মনে করেন সুরজ। ২০১৩ সালের জুন মাসে জুহুর বাসভবন থেকে জিয়া খানের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সুরজকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে সকল অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করে। এখন জীবনের সেই ক্ষত কাটিয়ে সুরজ পাঞ্চোলি নতুন করে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চাইছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%