কাজের সুযোগ হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জ্যোতিকা জ্যোতি

শোবিজ অঙ্গনে দীর্ঘদিনের চেনা মুখ জ্যোতিকা জ্যোতি। অথচ আজ সেই অভিনেত্রীই যেন চরম একাকিত্ব আর বিষণ্নতার গোলকধাঁধায় বন্দি। দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা এই তারকার কণ্ঠে এখন শুধুই হতাশার সুর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে কাজের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। নিজের জীবনের এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে জ্যোতি অভিযোগ করেছেন, অভিনয়ের ডাক না পাওয়া এবং বিভিন্ন মহলে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
একসময়ের ব্যস্ত এই অভিনেত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন ‘নরক যন্ত্রণা’ হিসেবে। লাইভে তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁকে একঘরে করে রেখেছে এবং পেশাগত বৈষম্যের শিকার করছেন তিনি। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করলেও জ্যোতির দাবি, রাজনৈতিক আদর্শ ও বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে তাঁর ক্যারিয়ার আজ স্থবির। দীর্ঘ দুই বছর হাতে কোনো কাজ না থাকায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এমনকি আর্থিক সংকটের কারণেও পড়েছেন কঠিন বাস্তবতার মুখে। বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে আরও বেশি ভেঙে দিচ্ছে বলে জানান এই অভিনেত্রী।
জ্যোতিকা জ্যোতির রাজনৈতিক পরিচয় এবং ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যপদ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চর্চা তুঙ্গে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শিল্পী হিসেবে নানা প্রতিকূলতা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হওয়ার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। অনলাইন বুলিং, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ জীবনযাত্রাও তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, অনেকে তাঁকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন, যা তাঁর অভিনয়জীবনকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এর আগেও শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক থাকাকালীন সময়ে নিজের অফিসের ভেতরে অবরুদ্ধ হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যোতি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পরিচিত মুখগুলোকে তখন বড় অচেনা মনে হয়েছিল। ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়ে ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’ কিংবা ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যিনি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, আজ সেই জ্যোতির জীবন যেন থমকে গেছে।
লাইভের শেষ পর্যায়ে এসে নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় ঘোষণা করে বর্তমান সরকারের প্রতি এই পরিস্থিতির একটি সুরাহার আবেদন জানিয়েছেন জ্যোতি। অভিনয়ে আপস করতে না পারা এবং নিজের আদর্শে অটল থাকার মাশুল কি এভাবেই দিতে হবে—এমন প্রশ্নই যেন বারবার ঘুরে ফিরে আসছে তাঁর কথায়। সব বাধা পেরিয়ে আবার অভিনয়ে ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান এই অভিনেত্রী। জৌলুশময় অভিনয় জগত থেকে ছিটকে পড়া জ্যোতিকা জ্যোতির এই আর্তনাদ শোবিজ অঙ্গনে এক গভীর বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
