প্রথম আলোর মিউজিক ডেস্ক আয়োজনে সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ করলেন ফাতেমা তুজ জোহরা

খোঁপায় জড়ানো তাজা ফুলের মালা, কপালে রক্তিম টিপ আর মুখে অমলিন হাসি নিয়ে বিকেলে হাজির হলেন নন্দিত নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। আক্ষরিক অর্থেই যেন সুরের মায়াজালে মুগ্ধতা ছড়াতে তিনি পা রেখেছিলেন সংবাদপত্রের কার্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানের মিউজিক অ্যাট ডেস্ক আয়োজনের বিশেষ অতিথি হিসেবে এসে তিনি কর্মীদের উপহার দিলেন এক অবিস্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যা। অনুষ্ঠানটির সূচনাপর্বে হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের সাবলীল পরিচয়ে ও উষ্ণ করতালিতে বরণ করে নেওয়া হয় এই সংগীত ব্যক্তিত্বকে।
নিজের ঘরোয়া পরিবেশের ভালো লাগার কথা জানাতে গিয়ে শিল্পী বললেন, প্রথম আলোর সঙ্গে তার সম্পর্কটা এতটাই আপন যে, বাড়িতে থাকা সাধারণ পোশাকেই তিনি চলে আসতে চেয়েছেন। এমন সাবলীল মেজাজেই তিনি শুরু করলেন তার সংগীত পরিবেশনা। রবীন্দ্রসংগীতের সুর লহরী দিয়ে শুরু হওয়া সেই আসরে একের পর এক কালজয়ী সব গান গেয়ে শোনালেন তিনি। ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’ ও ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে’ গান দুটির পরিবেশনায় যেন এক আবেশ তৈরি হলো পুরো অডিটোরিয়ামে।
নজরুলগীতির আসরে শিল্পী যখন ‘মম মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে গোপনে’ ধরলেন, তখন বাঁশির করুণ সুর উপস্থিত সবার হৃদয়ে এক অন্যরকম দোলা দিয়ে গেল। এরপর ‘কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান’ গানটি গাওয়ার আগে তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে জানালেন অন্তরের গভীরের সেই অমূল্য দর্শনের কথা, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের ঈশ্বর। সব মিলিয়ে বারোটি গানের ডালি সাজিয়েছিলেন শিল্পী। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের পাশাপাশি ‘তেপান্তরের মাঠে’, ‘নাচের নেশার ঘোর লেগেছে’ কিংবা ‘তুমি বেশ বদলে গেছ’—সব মিলিয়ে যেন সুরের এক ইন্দ্রজাল বুনেছিলেন তিনি। শেষ গানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সংবাদকর্মীরাও কণ্ঠ মেলালে অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায় এক প্রাণবন্ত আড্ডায়।
আয়োজন শেষে ফাতেমা তুজ জোহরা তার মুগ্ধতার কথা গোপন করেননি। তিনি অকপটে জানালেন, সাধারণ অনুষ্ঠানের চেয়ে এই আয়োজন ছিল অনেক বেশি ঘরোয়া ও প্রাণবন্ত। সংবাদপত্রের কর্মীরা যে এতটা সংগীতানুরাগী ও সংবেদনশীল শ্রোতা হতে পারেন, তা তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। পল্লব সান্যালের তবলার তাল, তানভীর সজীবের কি-বোর্ড আর মামুনুর রশীদের বাঁশির জাদুতে পূর্ণতা পাওয়া এই ১৫তম আসরটি সংগীতশিল্পী এবং শ্রোতা—উভয়ের কাছেই একটি চিরস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।
