রবিবারে সূর্য আরাধনা ও শ্রী সূর্য চালিশা পাঠের মাহাত্ম্য ও নিয়মাবলি

সনাতন ধর্ম ও বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের বিধানে ভগবান সূর্যদেবকে সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি এবং প্রত্যক্ষ দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলোকোজ্জ্বল এই মহাজাগতিক সত্তাকে প্রাণের সঞ্চারক এবং শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য করেন ভক্তরা। জ্যোতিষবিদদের মতে, সপ্তাহের প্রতিটি রবিবারে ভক্তিভরে শ্রী সূর্য চালিশা পাঠ এবং যথাযথ নিয়মে অর্ঘ্য প্রদান করলে জীবনে অশুভ ছায়া দূর হয়ে সৌভাগ্যের সুবাতাস বইতে শুরু করে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য হলেন সমস্ত গ্রহের অধিপতি তথা গ্রহরাজ। জাতকের কুণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থান বলবান ও শুভ থাকলে কর্মজীবনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয় এবং সমাজে মর্যাদা ও উচ্চপদ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে পরিবারে নিয়মিত সূর্যদেবের আরাধনা ও চালিশা পাঠ করা হয়, সেখানে কোনো নেতিবাচক শক্তি বা অলক্ষ্মী দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
রবিবার সূর্যদেবের বিশেষ কৃপা লাভের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন সূর্যোদয়ের পূর্বে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা কমলা রঙের বস্ত্র পরিধান করা বিধেয়। তামার পাত্রে জল, অক্ষত, লাল ফুল ও রলি মিশ্রিত করে উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য অর্পণ করতে হয়। এরপর পূর্ব দিকে মুখ করে কুশ কিংবা লাল আসনে বসে শুদ্ধচিত্তে শ্রী সূর্য চালিশা পাঠ করলে সূর্যদেব অত্যন্ত প্রীত হন।
শ্রী সূর্য চালিশা হলো ৪০টি পদের এক অনন্য আধ্যাত্মিক স্তোত্র, যা সূর্যের তেজ ও মহিমাকে ধারণ করে। স্তোত্রটির সূচনা হয় এভাবে—’কণক কিরণ চমৎকারি পরম, তেজ পুরুষ মার্তণ্ড। জ্ঞান রূপ জ্যোতির্ময় প্রভু, করুণাসিন্ধু অখণ্ড।’ এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে ভক্তরা অশুভ অন্ধকার দূর করে রোগ-শোক থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেন।
ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিশ্বাস, প্রতিদিন কিংবা বিশেষ করে রবিবারে শুদ্ধ মনে সূর্য চালিশা পাঠ করলে শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি মেলে এবং মনের তেজ বৃদ্ধি পায়। কোনো কঠিন আড়ম্বর ছাড়াই কেবল একাগ্রতা ও ভক্তি নিয়ে এই স্তোত্র পাঠ করলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সফলতা ও প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব বলে গণ্য করা হয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
