কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে অভিনয় ছেড়ে সবজি বিক্রেতা চীনের জনপ্রিয় অভিনেতা শু পেং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসনে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান নিয়ে যে উদ্বেগের সুর বেজেছে, তার আঁচ লেগেছে চীনের ঝকঝকে বিনোদন অঙ্গনেও। একসময়ের জনপ্রিয় ভার্টিক্যাল শর্ট ড্রামা সিরিজের দাপুটে অভিনেতা শু পেং এখন আর শুটিং সেটের আলোকচ্ছটায় নেই। ক্যামেরার সামনে দাপিয়ে বেড়ানো এই অভিনেতা এখন নিজের গ্রামের বাজারে সবজি বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রযুক্তি আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে অভিনয়শিল্পীদের হার মানার এমন এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতার গল্প এখন বিনোদনপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিজ্ঞাপন

সেন্ট্রাল একাডেমি অব ড্রামা থেকে দীক্ষিত শু পেং একসময় জনপ্রিয় সব মাইক্রো-ড্রামায় সিইওর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। সাফল্যের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা শুটিংয়ের ব্যস্ততায় কাটত তাঁর দিন। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই চীনের শর্ট ড্রামা ইন্ডাস্ট্রির দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়। তথ্যমতে, ওই সময়ে মুক্তি পাওয়া ১ লাখ ২৮ হাজার নাটকের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া হয়েছে। মানুষী অভিনয়শিল্পীর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এআই দিয়ে স্বল্প খরচে নাটক নির্মাণের এই জোয়ারে শু পেংয়ের মতো হাজারো অভিনেতা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে শু পেংয়ের দৈনন্দিন জীবন যাপন ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হওয়ার বদলে বাজারের রোদ-বৃষ্টিতে কাটছে। পেশা বদল হলেও তাঁর কণ্ঠে এক অদ্ভুত দার্শনিক প্রশান্তি ঝরে পড়ে। তিনি অকপটে জানিয়েছেন, অভিনয় তাঁর কাছে একটি পেশা মাত্র, আর জীবিকা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে যেকোনো কাজ করতেই তিনি প্রস্তুত। আত্মীয়স্বজন বা ভক্তরা তাঁকে এহেন অবস্থায় দেখে বিস্মিত হলেও শু পেং হতাশায় ভেঙে পড়েননি। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, মঞ্চ বদলেছে মাত্র, কিন্তু স্বপ্নের মৃত্যু হয়নি।

এআইয়ের এই জয়জয়কার শুধু একজন শু পেংয়ের ক্যারিয়ারে ধস নামায়নি, বরং পুরো শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যে শিল্পীরা একসময় দিনে ২০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত আয় করতেন, তাঁরা এখন ১ হাজার ২০০ ইউয়ান আয়ের কাজও খুঁজে পাচ্ছেন না। চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে চরিত্রায়ন এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের যাবতীয় কাজ এখন এআইয়ের নিয়ন্ত্রণে। ফলে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও পরিশ্রমের চেয়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্মাণ সংস্থাগুলো।

বিজ্ঞাপন

তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন এই অভিনেতা। তিনি এখন অভিনয়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পাশাপাশি বাস্তব অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নতুন কোনো প্রকল্পের স্বপ্ন দেখছেন। বিনোদনশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্থানকে তিনি উপেক্ষা করার মতো কোনো বিষয় বলে মনে করেন না, বরং এটিকে এক কঠিন বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। প্রযুক্তির দাপটে মানুষের সৃজনশীলতা কতটা হুমকির মুখে পড়তে পারে, তার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শু পেং।

0%
0%
0%
0%