ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও ট্যাঙ্কার অগ্নিকাণ্ড: তীব্র সংকটে মস্কো

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার আজভ সাগরে দুটি তেলের ট্যাংকার ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত জ্বালানি ডিপোগুলো লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি সলিউসার জানিয়েছেন, আক্রান্ত ট্যাংকারগুলোর নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং একটি জাহাজে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্মুখ সমরক্ষেত্র থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে একটি রিজার্ভ জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে উফাতে একটি তেল পাম্পিং স্টেশনে সফল হামলা চালিয়েছে। এছাড়া রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেল লোডিং টার্মিনালেও হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতের ওপর ইউক্রেনের এ ধরনের ধারাবাহিক আঘাতের ফলে দেশটিতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে মস্কো বাধ্য হয়ে জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাশিয়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চলে পেট্রোল ও ডিজেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে অথবা তীব্র ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, এটি কিয়েভের ‘দীর্ঘপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ কৌশলের অংশ, যা রাশিয়ার আগ্রাসন এবং যুদ্ধ অবসানে মস্কোর অনীহার জবাব হিসেবে চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যতদিন রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করবে না, ততদিন যুদ্ধের ভয়াবহতা তাদের সীমানার ভেতরেও অনুভূত হওয়া প্রয়োজন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৭৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর বিপরীতে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে রাশিয়া তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৯৪টি ড্রোন ও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলার মধ্যে ইউক্রেন ৭২টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে পারলেও ১৩টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এই হামলাকে এক ধরনের ‘উত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এটি যুদ্ধের সমাপ্তি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই সামরিক চাপকে ভ্রান্ত ধারণা বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধের স্থায়িত্ব কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা