নিট কেলেঙ্কারি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নীরবতার জেরে পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের রোষানলে আর মাধবন

বলিউড থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির নানা উত্তপ্ত ইস্যুতে যখন তারকারা নিয়মিত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছেন, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত নীরবতা পালন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন। দেশজুড়ে চলমান নিট কেলেঙ্কারি কিংবা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন নিয়ে যখন অরিজিৎ সিং থেকে শুরু করে শাবানা আজমি বা ওমি বৈদ্যের মতো তারকারা সরব, তখন পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে মাধবনের এই মৌনতা ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মনে জন্ম দিয়েছে তীব্র ক্ষোভের।
সিনেমা জগতের মানুষ হয়েও শিক্ষার্থীদের সংকটে মাধবনের এমন উদাসীনতাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে তার নীরব থাকাটাকেই বড় ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে মনে করছেন তারা। প্রতিবাদস্বরূপ তারা মাধবনের অফিসের দরজায় সাঁটিয়ে দিয়েছেন ‘নিট ফর সেল’ লেখা পোস্টার। এমনকি অভিনেতা নিখোঁজ রয়েছে বলেও পোস্টার ঝুলিয়েছেন তারা, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
নেটিজেনদের একাংশ মাধবনকে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ কটাক্ষ করে লিখছেন, অভিনেতা হয়তো এখনও কোনো ছদ্মবেশী গোয়েন্দা চরিত্রেই আটকে আছেন, যে কারণে তিনি এভাবে আত্মগোপন করে রয়েছেন। আবার অনেকে মাধবনের অতীতের সফল সিনেমা ‘রং দে বসন্তি’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যে অভিনেতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার গল্পে অভিনয় করেছেন, বাস্তব জীবনে তিনি কেন মেরুদণ্ডহীন ভূমিকা পালন করছেন।
অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, মাধবন নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেশ ছেড়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি নিজ দেশের শিক্ষা বা সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তবে সব সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং ভার্চুয়াল তোপের মুখেও ম্যাডি খ্যাত এই অভিনেতা এখনো মুখে কুলুপ এঁটেই বসে আছেন। তার এই দীর্ঘ নীরবতা ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল ইমেজে কতটা কালিমা লেপন করবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
