AdvertisementAdvertisement

বলিউডে সুযোগের প্রলোভনে অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে

গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলোর নিচে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে অন্ধকার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। রূপালি পর্দার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ের মায়ানগরীতে পা রাখা উদীয়মান অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপার করুণ পরিণতি আজও বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় হয়ে আছে। অভিনয়ের সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিল তাঁকে, কিন্তু সেই সুযোগের আড়ালে যে মৃত্যুফাঁদ ওত পেতে ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি এই তরুণী।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন থেকে আসা মীনাক্ষী ‘৪০৪’ এবং মাধুর ভাণ্ডারকরের ‘হিরোইন’ চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কারিনা কাপুর অভিনীত ‘হিরোইন’ সিনেমার সেটেই তাঁর পরিচয় হয় অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিন নামের দুই জুনিয়র শিল্পীর সঙ্গে। আপাতদৃষ্টিতে সখ্যতা তৈরি হলেও, এই দুই প্রতারকের নজর ছিল মীনাক্ষীর ওপর। তাঁদের ধারণা ছিল, মীনাক্ষীর পরিবার বিত্তবান। এই ভুল ধারণা থেকেই তাঁরা মীনাক্ষীকে অপহরণের ছক কষেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ১৩ মার্চ উত্তর প্রদেশে একটি সিনেমার কাজের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মীনাক্ষীকে কৌশলে প্রয়াগরাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে মীনাক্ষীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ১৭ মার্চ পরিবারের কাছে ১৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। টাকা না দিলে মীনাক্ষীকে পর্নোগ্রাফিক ছবিতে কাজ করতে বাধ্য করার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষে বিপুল অংকের মুক্তিপণ দেওয়া সম্ভব ছিল না, তাই মুক্তিপণের আশায় মীনাক্ষীর ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।

মুক্তিপণ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে অমিত ও প্রীতি তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নৃশংসতার চরম সীমায় পৌঁছে তারা মীনাক্ষীর দেহ খণ্ডিত করে ফেলে। তাঁর মাথাবিহীন দেহ প্রীতির পরিবারের বাড়ির কাছের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মীনাক্ষীর বিচ্ছিন্ন মাথাটি বাসে লখনৌ যাওয়ার পথে ফেলে দেওয়া হয়, যা আর কখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হত্যার পরও খুনিরা মীনাক্ষীর সিম কার্ড ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে পুলিশ তাঁদের গতিবিধি শনাক্ত করে ফেলে। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশনে টাকা তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন অমিত ও প্রীতি। উদ্ধার করা হয় মীনাক্ষীর ব্যক্তিগত সামগ্রী। দীর্ঘ ছয় বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ৯ মে মুম্বাইয়ের একটি আদালত দুই অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। মীনাক্ষী থাপা চেয়েছিলেন বড় পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে, কিন্তু স্বপ্নের শহরের সেই সুযোগের হাতছানিই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়।

0%
0%
0%
0%