নাইট ক্লাবের বাউন্সার থেকে বিশ্বজয়ের গল্প ভিন ডিজেলের জন্মদিন আজ

হলিউডের ঝকঝকে দুনিয়ায় যিনি নিজের পেশীবহুল শরীর আর গম্ভীর কণ্ঠের জাদুতে জয় করে নিয়েছেন কোটি মানুষের হৃদয়, তিনি ভিন ডিজেল। আজ এই মহাতারকার জন্মদিন। কিন্তু এই খ্যাতির চূড়ায় ওঠার পথটা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দীর্ঘ নয়টি বছর তাকে কাটাতে হয়েছে নাইট ক্লাবের বাউন্সার হিসেবে। সেই ১৭ বছর বয়সে রাতভর ক্লাবের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলে দিনের আলোয় অডিশন দিয়ে বেড়াতেন তিনি। শত শত মারামারি আর উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী হওয়া সেই দিনগুলোই যেন তাকে শিখিয়েছিল জীবনের কঠিন লড়াইয়ে টিকে থাকার মন্ত্র।
১৯৬৭ সালের ১৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্ক সিনক্লেয়ার নামে জন্ম নেওয়া এই তারকার জীবন বদলে যায় শৈশবের এক মজার ঘটনা থেকে। সৎবাবা আর্ভিং এইচ ভিনসেন্ট ছিলেন থিয়েটার পরিচালক, যার হাত ধরেই মাত্র সাত বছর বয়সে অভিনয়ের মঞ্চে প্রথম পা রাখা। তবে হলিউডের প্রচলিত ‘নায়ক’ তকমাটা তার কপালে জুটছিল না সহজে। দীর্ঘ সময় তাকে ফিরতে হয়েছে প্রত্যাখানের গ্লানি নিয়ে। শেষ পর্যন্ত জেদ চেপে বসে তার মনে—অন্যের দয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।
সেই জেদ থেকেই জন্ম নেয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাল্টি-ফেসিয়াল’। ১৯৯৫ সালে নির্মিত এই ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর পর নজরে পড়েন কিংবদন্তি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের। স্পিলবার্গ এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে ভিন ডিজেলের জন্য বিশেষভাবে চরিত্র লিখে তাকে সুযোগ দেন কালজয়ী সিনেমা ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’-এ। সেই থেকে শুরু, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই লড়াকু অভিনেতাকে।
তবে বিশ্বজুড়ে ‘ডমিনিক টরেটো’ হিসেবে অমর হয়ে আছেন ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে। অ্যাকশন সিনেমার ইতিহাসে এই চরিত্রটি তাকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বন্ধু পল ওয়াকারের মর্মান্তিক মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণভাবে ভেঙে ফেললেও, কাজের ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই অটল থেকেছেন। আজ তিনি হলিউডের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকা, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে অর্থ বা খ্যাতির চেয়েও ভিন ডিজেল ভক্তদের কাছে শ্রদ্ধেয় তার সেই সংগ্রামের গল্পের জন্য—যেখানে তিনি প্রমাণ করেছেন, সুযোগ না পেলে নিজের গল্প নিজেই তৈরি করে নিতে হয়।
