মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে বিশেষ উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অবিসংবাদিত সম্রাট, মহানায়ক উত্তম কুমার। তাঁর নামটির মধ্যেই মিশে আছে বাংলা সিনেমার সমস্ত আভিজাত্য আর আবেগ। কালের বিবর্তনে সিনেমার ভাষা বদলালেও, উত্তমের জাদুকরী উপস্থিতি আজও অমলিন। এই মহানায়কের শতবর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে এবার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের রূপরেখা ও পরিকল্পনা নিয়ে টলিউডের ইন্ডাস্ট্রি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কিছুদিন আগেই নবান্নে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে সেই বৈঠক যে নেহাতই সৌজন্যমূলক এবং মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করেই ছিল, তা এখন স্পষ্ট। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই প্রসেনজিতের কাছে পাঠানো চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেছেন, বাংলা সিনেমার গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক উত্তম কুমারের শততম জন্মজয়ন্তী উদযাপন কেবল উৎসব নয়, বরং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের এক বিরল সুযোগ।
চিঠিতে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাঙালির শিল্প সংস্কৃতিতে মহানায়কের অসামান্য অবদান অনস্বীকার্য। এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিশাল পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। তবে এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে প্রয়োজন রাজ্যের সমস্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রয়াস। সবার আন্তরিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণই উত্তম কুমারের প্রতি এই শ্রদ্ধাঞ্জলিকে পূর্ণতা দেবে বলে চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মহানায়কের জন্মশতবর্ষের আবহে সম্প্রতি টলিউডেও বইছে শ্রদ্ধার হাওয়া। কেবল স্মরণের দিন নয়, বর্তমানের শিল্পীরাও নিজেদের শিকড়কে সম্মান জানাতে তৎপর। এরই মধ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিল্পীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, মিতা চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ও অলকানন্দা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা শিল্পীদের উপস্থিতিতে সেই অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল নস্টালজিয়ায় ভরপুর এক মিলনমেলা। সব মিলিয়ে মহানায়কের শতবর্ষের এই উদযাপন যে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নতুন আবেগ ও সংহতির বার্তা নিয়ে আসছে, তা বলাই বাহুল্য।