বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন স্মৃতিকাতরতায় সম্পূর্ণা লাহিড়ী

গত বছরের ২৯ জুলাই জীবনমঞ্চের আলোকবৃত্ত থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক নীলাদ্রি লাহিড়ী। বাবার সেই অকাল প্রয়াণের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছয় মাসের ব্যবধানে মাকেও হারিয়ে এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অভিভাবকহীন হওয়ার সেই অসহ্য যন্ত্রণা যে আজও এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।
বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সম্পূর্ণা যেন এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। পুরনো স্মৃতির অ্যালবাম থেকে বাবার সঙ্গে কাটানো অমূল্য মুহূর্তের কিছু ছবি শেয়ার করে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। অভিনেত্রী লিখেছেন, এখন আর কোনো শব্দই যেন যথেষ্ট নয়। বছর পেরিয়ে গেলেও বাবার চলে যাওয়াটা তাঁর কাছে এখনও এক দুঃস্বপ্নের মতো অবাস্তব মনে হয়। সম্পূর্ণার ভাষায়, যেদিন তাঁর বাবা চলে গেলেন, সেই দিনটিই তাঁকে আচমকা অনেকটা বড় করে দিয়েছিল। এক নিমেষে যে দায়িত্বের ভার তাঁর কাঁধে এসে পড়েছিল, তা আগে কখনো কল্পনাও করেননি তিনি। ছোট্ট মেয়ে হয়ে থাকার সেই নিশ্চিন্ত আশ্রয় হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ তাঁর প্রতিটি শব্দে ফুটে উঠেছে।
সেই পোস্টে সম্পূর্ণা আরও জানান, প্রতিটি মুহূর্তেই তিনি বাবার অভাব প্রবলভাবে অনুভব করেন। কাজের প্রতিটি পদক্ষেপে বাবার অদৃশ্য উপস্থিতি তাঁকে আগলে রাখে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। অভিনেত্রী লিখেছেন, জীবন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাক না কেন, তিনি সবসময় বাবার দেখানো পথে একজন ভালো মানুষ হয়ে থাকতে চান। বাবা ও মাকে গর্বিত করার অদম্য সাহস ও শক্তি পাওয়ার প্রার্থনা করেছেন তিনি।
সবশেষে নিজের ‘সুপারহিরো’ বাবাকে স্মরণ করে সম্পূর্ণা লিখেছেন, দূরে থাকলেও যেন তিনি মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখেন। ৬৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেওয়া সেই মানুষটি আজও সম্পূর্ণার কাছে পরম প্রেরণার উৎস হয়ে বেঁচে আছেন। রূপালি পর্দার গ্ল্যামারের আড়ালে এক কন্যার এই নিরন্তর লড়াই আর বাবার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ভক্তদের হৃদয়কেও ছুঁয়ে গেছে।