AdvertisementAdvertisement

তারকাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস ও কেলেঙ্কারির নেতিবাচক প্রভাব ও ক্যারিয়ারের অবসান

এক সময় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ছিল পরম আরাধ্য, কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি ক্লিপ বা কয়েক মিনিটের ফুটেজ মুহূর্তেই কোটি মানুষের মুঠোফোনে পৌঁছে যায়। সেলিব্রিটিদের জীবনে এই প্রযুক্তির জয়যাত্রা আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়েই যেন বেশি দেখা দিয়েছে। ভিডিও ফাঁস কিংবা স্ক্যান্ডালের চোরাবালিতে পড়ে অনেক ঝকঝকে ক্যারিয়ারই হারিয়েছে তাদের গ্ল্যামার, আবার অনেক তারকাই নিভে গেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। সত্য-মিথ্যা কিংবা মর্ফড ভিডিওর গোলকধাঁধায় পড়ে সবচেয়ে বড় চড়া মূল্যটি দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট তারকাদেরই।

বলিউডের পর্দায় রিয়া সেন ও অশমিত প্যাটেলের রসায়ন একসময় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, কিন্তু ২০০৫ সালের একটি কথিত ব্যক্তিগত ভিডিও তাদের ক্যারিয়ারের চিত্রপট বদলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজকের মতো বিস্তৃত না হলেও, সেই ভিডিওর রেশ রিয়া সেনের পেশাগত জীবনে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছিল। অভিনয়ের চেয়ে মানুষের কৌতূহল রিয়াকে ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক দিয়ে বিচার করতে শুরু করে, যার ফলে বড় বাজেটের চলচ্চিত্র থেকে তিনি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যেতে বাধ্য হন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেট যুগের প্রথম বড় সেলিব্রিটি কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত পামেলা অ্যান্ডারসন ও টমি লির সেই চুরি হওয়া ভিডিও। নব্বইয়ের দশকের সেই ঝড় পামেলার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, তা পরবর্তীকালে তাঁর আত্মজীবনী ও প্রামাণ্যচিত্রে ফুটে উঠেছে। খ্যাতি তাঁর ক্যারিয়ার পুরোপুরি ধসিয়ে না দিলেও, জীবনের অনেকটা সময় তাঁকে সেই স্ক্যান্ডালের পরিচয় বহন করতে হয়েছে। একই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন টেলিভিশন তারকা মোনা সিং, যখন তাঁর নামে একটি মর্ফড নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভুয়া প্রমাণিত হলেও কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র সাইবার বুলিং এবং ট্রল তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

কিছু ক্ষেত্রে আবার তারকাদের নিজের কর্মই ডেকে এনেছে চূড়ান্ত পতন। ‘গ্যাংস্টার’ ও ‘লাইফ ইন আ…মেট্রো’ খ্যাত অভিনেতা শাইনি আহুজা গৃহকর্মী ধর্ষণের অভিযোগে যখন অভিযুক্ত হন, তখন বলিউডের স্বর্ণোজ্জ্বল ক্যারিয়ার নিমিষেই ধুলোয় মিশে যায়। দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাত বছরের সাজাভোগ এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেলেও, বলিউডের রূপালি পর্দায় নিজের হারানো সিংহাসন তিনি আর পুনরুদ্ধার করতে পারেননি। ভোজপুরি সিনেমার তারকা প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রেও চিত্রটা ছিল একই রকম; একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের পর লোকলজ্জার ভয়ে তিনি নিজেকে পুরোপুরি জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিতর্কের ঢেউ কেবল ভারতীয় উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পপ গায়িকা মেলানি মার্টিনেজ যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মুখে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাময়িক নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরলেও আগের সেই আকাশচুম্বী সাড়া আর পাননি। অন্যদিকে, হলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা ব্রায়ান সিঙ্গার, যিনি ‘এক্স-মেন’ কিংবা ‘বোহিমিয়ান র‍্যাপসোডি’র মতো মাস্টারপিস উপহার দিয়েছেন, নাবালক যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আজ ইন্ডাস্ট্রির বাইরে। আইনি লড়াইয়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও প্রযোজক মহল তাঁকে একঘরে করে রেখেছে, যার ফলে ২০১৯ সালের পর থেকে বড় পর্দায় তাঁর কোনো সৃজনশীল কাজ আর দেখা যায়নি। তারকাবহুল এই শোবিজ ভুবনে খ্যাতির আলোর নিচে থাকা অন্ধকার দিকটি অনেক সময় মুহূর্তেই কেড়ে নেয় সবটুকু অর্জন।

0%
0%
0%
0%