কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কদর্য ভাষার কড়া জবাব দিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন টলিউড অভিনেত্রী তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দল পরিবর্তনের পরপরই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক আক্রমণ ও কটাক্ষের নিশানায় পড়েছেন তিনি। কল্যাণ তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘গদ্দার’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ‘হুগলির ভূগোল জানেন না’ বলেও বিদ্রূপ করেছিলেন। এবার সেই খোঁচাকে হাতিয়ার করেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে পাল্টা অগ্নিবাণ ছুড়লেন ‘দিদি নম্বর ১’।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিজের এলাকার বাইরে গিয়ে মাতব্বরি করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রচনা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, শ্রীরামপুরের সাংসদ হয়ে কেন কল্যাণ বারবার হুগলির রাজনীতিতে নাক গলাচ্ছেন, তা বোধগম্য নয়। কল্যাণকে বিদ্ধ করে রচনা বলেন, তিনি যদি সত্যিই হুগলির ভূগোল এত ভালো জানতেন, তবে নিজের ছেলেকে উত্তরপাড়া থেকে জেতাতে পারতেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে অভিনেত্রী সরাসরি কল্যাণের ব্যক্তিগত ব্যর্থতাকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।
স্রেফ ভূগোলের খোঁচাই নয়, বরং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শব্দচয়ন ও রুচি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রচনা। তাঁর দাবি, সংসদের ভেতরে সহকর্মী মহুয়া মৈত্রের প্রতি কল্যাণ যে ধরনের কদর্য ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন, তা চরম লজ্জাজনক এবং অমার্জিত। রচনা আক্ষেপের সুরে বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন, তা কোনো শালীন মানুষের পক্ষে উচ্চারণ করা অসম্ভব। এ ধরনের ভাষা সাধারণত উত্তর কলকাতার যৌনপল্লীতেই শোনা যায় বলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।
একই সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রচনা। তাঁর মতে, যে মহুয়া মৈত্রকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করেছিলেন কল্যাণ, আজ ক্ষমতার প্রয়োজনে সেই মহুয়াই তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছেন। রাজনীতির এই দ্বিমুখী নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে রচনার এমন স্পষ্টভাষী মন্তব্য টলিপাড়ার অন্দরমহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন—সর্বত্রই আলোচনার ঝড় তুলেছে। আপাতদৃষ্টিতে রচনার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, নিজের অবস্থান ও ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ে তিনি যে মোটেও দমে যাওয়ার পাত্রী নন, তা তাঁর আজকের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় স্পষ্ট।
