শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ৩৬ নং পশ্চিম কোদালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের জ্ঞান অর্জন ও আনন্দমুখর পরিবেশে শেখার সুযোগ করে দিতেই এ সফরের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব শাহিনুল ইসলাম-এর উদ্যোগে সকাল ৯টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শিক্ষাসফরের মূল আকর্ষণ ছিল নৌযাত্রা। শিক্ষার্থীদের জন্য বেছে নেওয়া হয় নৌপথ, আর যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় একটি বড় নৌকা। নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কাছ থেকে দেখেছে বাংলাদেশের দুই খরস্রোতা নদী পদ্মা ও মেঘনা। এছাড়া তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, কৃষিকাজ ও নদী নির্ভর জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারে।
ভ্রমণে অংশ নেওয়া ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদরী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শিক্ষা সফরে এসে অনেক আনন্দ করেছি। নদী দেখেছি, খেলাধুলা করেছি—আমি খুব খুশি।”
অন্যদিকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম কবির বলেন, “আমরা শিক্ষা সফরে এসে নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। জেলেরা কিভাবে নদীতে মাছ ধরে, চাষিরা কিভাবে জমিতে ফসল ফলায়—সব কিছু দেখেছি। এটা আমাদের বইয়ের বাইরে বাস্তব শেখা।”
শিক্ষাসফরের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব শাহিনুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষার্থীরা সারাবছর ক্লাসে বসে একই রকম পাঠে অংশ নেয়, এতে তাদের মধ্যে একঘেয়েমি তৈরি হয়। শিক্ষা সফর সেই একঘেয়েমি দূর করে। এতে তারা শুধু বইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ তৈরি করতে পারে। এটি তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা প্রতিবছরই এমন শিক্ষাসফরের আয়োজন করি।”

শুধু ভ্রমণ নয়, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও—যেমন কবিতা আবৃত্তি, গুপ্তধন উদ্ধার, বউয়ের কোলে সতীনের ছেলে, ভাগ্য যাচাই প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ, পারস্পরিক বন্ধন ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
দিনব্যাপী এ শিক্ষাসফর শেষে সবাই আনন্দ ও নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এটি তাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।