Advertisement

অনার্স ডিগ্রিহীন কর্মকর্তাকে রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগে তীব্র বিতর্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) পদে স্নাতক ডিগ্রিবিহীন একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী উপ-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হলেও আসলাম হোসেনের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছিল। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফাইল পর্যালোচনা করে তাকে এ পদের জন্য যোগ্য বলে মনে হয়নি। তার মতে, এমন অযোগ্য কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়বে। এ ধরনের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম বা বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি এবং এরপর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে না নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন না করলেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকার দাবি করেছেন নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার আসলাম হোসেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম জানান, আসলাম হোসেনের যোগ্যতা বিবেচনা করেই তাকে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

0%
0%
0%
0%