গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পুলিশের

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। এ ঘটনার পর থেকে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আদালত অভিযুক্তদের রিমান্ড মঞ্জুর না করে জেলগেটে দুই দিনব্যাপী প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, অভিযুক্তরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিল। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পাঠানো হয়েছিল, তবে পরীক্ষায় কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়াকেই এই ফলাফলের কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, মাদক সেবনের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করলে সঠিক ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অভিযুক্তদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ঘটনার পাঁচ দিন পর, ফলে ফলাফল নেগেটিভ আসাটাই স্বাভাবিক ছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই সাধারণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অবকাশ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার পর থেকেই একটি মহল মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ডোপ টেস্টের ফলাফলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা করা হচ্ছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি জহির আলম নয়ন অভিযোগ করেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় শান্ত রংপুরকে অশান্ত করার চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন জানিয়েছেন, তিনি ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে কথা বলেছেন এবং পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো তথ্য গোপনের সুযোগ নেই। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
