পটিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, পাসের হার মাত্র ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গড় পাসের হার মাত্র ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয়েই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
ফলাফলের দিক থেকে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল, পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাস। এখান থেকে ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যেখান থেকে ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে।
তবে ফলাফলের চিত্র অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতাশাজনক। পৌর সদরে অবস্থিত শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার মাত্র ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়, হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হারও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে হাইদগাঁও ও শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
পটিয়া উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল তুলনামূলক সন্তোষজনক। উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮৫ জন পাস করেছে, যা শতকরা হিসেবে ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে জানিয়েছেন, বিভিন্ন চাপের মুখে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে গিয়ে সামগ্রিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীনও একই সুর ধরে আগের বছরের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকে ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপেন কান্তি বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব ও নিয়মিত তদারকির অভাবে এমন ফলাফল হয়েছে, যা কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে। তারা এ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।
