বগুড়ার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের মৃত্যুফাঁদ হিসেবে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ জাল। মশারির মতো মিহি বুননের এসব উপকরণ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জালে আটকা পড়ছে রেনু পোনা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছ। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ পাওয়ার লোভে অসাধু চক্রের মাধ্যমে এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে, যার ফলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। নদীতে এভাবে বাঁশের বেড়া বা কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ আটকে রেখে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নদীর সঠিক গতিপথও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নদী রক্ষা কমিটির সদস্য সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার জানান, নদীতে বাঁশের বেড়া ও কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে যেভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব অপতৎপরতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদ আরও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বাঁশের বেড়ার কৃত্রিম বাঁধসহ এসব অবৈধ জাল দ্রুত অপসারণ করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অবিলম্বে এই মৎস্যবিনাশী কার্যক্রম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।