শরীয়তপুরে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা: অভিযুক্ত ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পলাতক

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়নে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম আবুল কাসেম মুন্সি (৬৫), যিনি সম্পর্কে ভুক্তভোগী শিশুটির চাচাতো দাদা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। প্রতিদিন তার মা তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে যান। তবে সোমবার দুপুরে মায়ের যেতে দেরি হওয়ায় শিশুটি একাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সে তার মায়ের কাছে পেট ব্যথার কথা জানায়।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিকেলের দিকে শিশুটির ব্যথা বেড়ে যায়। তখন মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি জানায়, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে চাচাতো দাদা আবুল কাসেম মুন্সী তাকে অন্য একটি রাস্তায় নিয়ে যায় এবং তার স্পর্শকাতর স্থানে ব্যথা দেয়।

বিষয়টি জানার পর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত আবুল কাসেম মুন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং কৌশলে পেছনের দরজা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এদিকে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাত ১১টার দিকে শিশুটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির এক স্বজন বলেন, "আমরা জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় তার দাদা তাকে ব্যথা দিয়েছে। আমরা তাকে ধরতে গেলে সে আমাদের সামনে না এসে অন্য দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। আজ আমাদের শিশুর সাথে এমন হয়েছে, কাল অন্য কারও সাথে হতে পারে। দেশে শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে গেছে, আমরা এর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশুদের ওপর এমন নির্যাতন করার আগে অন্তত পাঁচবার ভাবে।"

এদিকে, পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবুল কাসেম মুন্সী পলাতক রয়েছেন। থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

০%
০%
০%
০%