রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়েছে। সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।
গত বুধবার দুপুরে সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার খবিরুল আলম শোকজের লিখিত জবাব জেলা কার্যালয়ে জমা দিলে তা প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান বাহরাইনপ্রবাসী ও উপজেলার উজানচর এলাকার বাসিন্দা রাসেল মোল্লা। অভিযোগ ওঠে, কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। অনেক কাকুতি-মিনতির পর দুই টাকা কমে দুই হাজার টাকায় রফা হয়। টাকা লেনদেনের সময় কৌশলে ভুক্তভোগী প্রবাসী সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেন এবং পরে তা ফেসবুকে প্রকাশ করে দেন।
ভুক্তভোগী রাসেল মোল্লা জানান, তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে আকুতি জানালেও তাকে কয়েক দিন ঘোরানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত টাকা নেওয়ার পরই তার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, শুধু তিনিই নন, ওই অফিসে ঘুস ছাড়া কোনো সেবা মেলে না এবং সেখানে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। কম্পিউটারের দোকান ও দালালদের মাধ্যমে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি ও নাম সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের নামে পাঁচ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়া হয়। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী জানান, জরুরি কাজে বিদেশে যাওয়ার তাগিদ থাকায় তাকেও ৫০ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড করাতে হয়েছিল।
এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম জানান, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে, তাই তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন জানান, ঘুস গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে শোকজ করা হয়েছিল এবং জবাব পাওয়ার পর তা কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ঝিনাইদহে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।