মাদারীপুরের রাজৈরে গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, ধীরগতি এবং সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা, চুক্তির শর্ত ও কারিগরি নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং বড় আকারের খোয়া ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বদলি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার গোলবাথান ইউজেডআর-কবিরাজপুর ইউপি সড়ক হয়ে হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউপি সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল সমাপ্তির সময় প্রথমে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। কাজের এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং কিছু অংশের কাজ অসমাপ্ত থাকায় চলাচলে জনদুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বিশেষ করে রাস্তার স্তর নির্মাণে ব্যবহৃত খোয়ার মান ও আকার নিয়ে তীব্র আপত্তি ওঠে। গত ১৫ জুলাই মাদারীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে মজুত করা খোয়া নির্ধারিত মানের উপযুক্ত নয় বলে মত দেন এবং তা সরিয়ে নতুন উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২৯ জুলাই দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন পরিদর্শনে গিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করে একই ধরনের বড় আকারের খোয়া দিয়ে কাজ করার চেষ্টা দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
একই দিনে নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে কাজের মান ও শিডিউল নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওহাব মাতুব্বরের সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। এলজিইডির চিঠিতে এই ঘটনাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক ও হুমকিমূলক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে গত ৫ আগস্ট লিখিত জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে, পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদার প্রতিনিধি ও উপসহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। তবে কারণ দর্শানোর নোটিসে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে চুক্তি বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান জানান, তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি পরবর্তীতে জানতে পেরেছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার উজ্জ্বল দাবি করেছেন যে তাদের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টির বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান।